সোমবার, ১৯ মার্চ, ২০১২

অনলাইনে আয়

অনলাইনে আয়, অফলাইনে আয়, বেডরুমে বসে আয়, বাথরুমে বসে আয়, চারিদিকে শুধু আয় আর আয়। নেটের বাংলা টেক ব্লগগুলোতে ঢুকলে মনে হয় বাঙালি ধুমছে আয় করে একেকজন চার-পাঁচটা করে আইফোন-ম্যাকবুক কিনে বড়লোক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ইন্টারনেটে আয়ের জন্য বিশেষ করে বাঙালিরা যে পরিমান কষ্ট করেন, তার বিনিময়ে খুবই নগণ্য আয় করতে পারেন। তবে আরো দুঃখের বিষয় হলো, যারা এই নগণ্য পরিমাণ আয় করতে জানেন, তারাও সংখ্যায় অতি নগণ্য। সবমিলিয়ে বাস্তবতা হলো, যত বেশি আয়ের কথা চারিদিকে শোনা যাচ্ছে, ততোটা আয় আসলে হচ্ছে না। বাঙালি আজও গ্রামীণফোনের ১ গিগাবাইটের প্যাকেজের ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আজও ফ্রি হোস্টিং-এ ওয়েবসাইট হোস্ট করে। কিন্তু যারা অনলাইনে আয়ের চেষ্টায় ব্যর্থ, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? কেন এই ব্যর্থতা?
বাঙালির বর্তমান ট্রেন্ড হচ্ছে অ্যাডফ্লাই। হঠাৎ করেই সব ব্লগে ছবি, ম্যাগাজিন, গেম ইত্যাদি ডাউনলোড লিংকের হিড়িক পড়ে গেছে। কিন্তু লিংকে ক্লিক করতে গেলেই আসল কারণ বোঝা যায়। সবাই যে লিংকের আড়ালে বিজ্ঞাপন ঢেকে রেখেছে। ১০০০ ক্লিকে মাত্র কতো ডলার যেন। এর বিনিময়ে মানুষ যেভাবে কষ্ট করছেন, কেউ কেউ আলাদা ব্লগও খুলে ফেলেছেন, কিন্তু দেখলে হাসি আসে যে তাদের এই ধৈর্য্য কতদিন থাকবে?
আসলে বেশিদিন থাকবে না। অন্তত পিটিসি, লিংক অ্যাড এসব দিয়ে হয়তো আয় করা যায় কিন্তু তা কখনোই আপনি যতোটা খাটছেন তার অর্ধেকের জন্যও যথোপযুক্ত নয়। আমাদের বাঙালির মহা সমস্যা হলো আমরা এক লাফে গাছের মগডালে উঠার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমি যে ব্যতিক্রম, তা কিন্ত বলছি না। মাঝে মাঝে আমিও লাফ দেয়ার জন্য তৈরি হই। কিন্তু শেষে কী হবে তা ভেবে নিজেকে সামলে নিই। তবে অনেকেই তা পারেন না।
আপনি যদি সত্যিই আয় করতে চান এবং তা যদি কম্পিউটারওয়েবসাইট ইত্যাদির উপরে হতে হয় তাহলে আপনার প্রথমেই যা প্রয়োজন তা হলো শিক্ষা।

বেছে নিন আপনার পছন্দ

শিক্ষা গ্রহণের আগে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার আগ্রহ কোথায়। অনেকেই বলবেন ফ্রিল্যান্সিং। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং কোনো কাজ না। এটা কাজের একটা উপায় মাত্র। তাহলে আপনার পছন্দের কাজ কোনটি? গ্রাফিক্স ডিজাইনওয়েব ডিজাইন? অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট? জাভা ডেভেলপমেন্ট? আইফোন অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট? ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট? সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট? ফ্ল্যাশ ডেভেলপমেন্ট? থ্রিডি এনিমেশন ডেভেলপমেন্ট? ভিডিও এডিটিং? নাকি অডিও মিক্সিং?
এগুলোর বাইরেও আরো অনেক কাজ রয়েছে যা আপনি একটু খোঁজ করলেই জানতে পারবেন। অতএব, টাকার দিকে হাত বাড়ানোর আগে জেনে নিন আপনার কোন কাজটি শেখা দরকার।

শিখে নিন আপনার কাজ

আপনি যেই কাজই শিখতে চান না কেন, আপনার জন্য রয়েছে প্রচুর অপশন। বাংলাদেশেই অনেক ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে যারা কোনো না কোনোটার উপরে বেশ ভালো শেখায়। যেমন আমি শুনেছি বিডিজবস পিএইচপি খুব ভালো শেখায়। এভাবে আপনি যা শিখতে চান তা কোথায় ভালো শেখা যাবে তা খোঁজ নিন। কিছুটা টাকা হয়তো খরচ হবে, কিন্তু এতে করে মনে করুন গাছে উঠার জন্য আপনি ক্রেন তৈরি করছেন।
অন্যদিকে ইংরেজিতে ভালো জ্ঞান থাকলে আর ইন্টারনেট স্পিড ভালো থাকলে টরেন্ট দিয়ে ডাউনলোড করতে পারেন লিন্ডা বা টোটাল ট্রেনিং-এর যে কোনো সফটওয়্যার এর উপর সম্পূর্ণ ট্রেনিং ভিডিও। এছাড়াও বিভিন্ন সাইটেও এসব শিখতে পারবেন। আর শেখার কাজ শুরুর সময় অবশ্যই আপনি যা শিখতে চাচ্ছেন তার উপর ভালো একটি ফোরাম খুঁজে বের করুন। সেখানে আপনার ছোটখাটো প্রশ্ন করে অন্যদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারবেন উত্তর। মনে রাখবেন, বহিঃর্বিশ্বের মানুষ যথেষ্টই হেল্পফুল। বিশেষ করে এসব ফোরামে আপনি সাহায্য পাবেন তা নিশ্চিত থাকতে পারেন। কেবল প্রয়োজন হবে সঠিক ফোরামের এবং ইংরেজিতে অল্প দক্ষতা।

এবারে আয় করুন দু’হাতে

শুরুটা কখনোই অনেক ভালো হয় না। তাই মনের জোর নিয়ে কাজের সন্ধানে নেমে পড়ুন। প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে ক্লায়েন্ট খুঁজুন। দু-একটি কাজ করে তারপর দেশীয় কোনো কোম্পানিতে জয়েন করতে পারেন। বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো ফার্ম আছে। খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। এসব জায়গায় কাজ করলে আপনার টাকার পাশাপাশি ক্যারিয়ারও তৈরি হবে। আর যদি এরই মধ্যে ওডেস্ক বা ইল্যান্সে ভালো অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারেন, তখন আপনিই ডিসিশন নিতে পারবেন দেশীয় কাজটা ধরে রাখবেন নাকি ফ্রিল্যান্সিং-এ ডেডিকেটেডভাবে কাজ করবেন।
তবে সবক্ষেত্রেই আপনাকে শিখতে হবে খুব ভালোভাবে। আপনার পছন্দের বিষয় হলে শিখতে কোনো অসুবিধা হবে না। এভাবেই আপনি নিশ্চিত উপায়ে সত্যিকারের টাকা আয় করতে পারবেন আপনার পছন্দের কাজ করেই।
এরকম আরও কিছু পোস্টঃ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন